মূল Spirituality (আধ্যাত্মিকতা টিপস) বৃহস্পতি দুর্বল হয়ে পরলে কিন্তু মারাত্মক বিপদ! তাই সবারই এই নিয়মগুলি মেনে...

বৃহস্পতি দুর্বল হয়ে পরলে কিন্তু মারাত্মক বিপদ! তাই সবারই এই নিয়মগুলি মেনে চলা জরুরি!

বৃহস্পতি দুর্বল হয়ে পরলে কিন্তু মারাত্মক বিপদ! তাই সবারই এই নিয়মগুলি মেনে চলা জরুরি!

জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে কারও জন্ম কুষ্টিতে বৃহস্পতি গ্রহের অবস্থান দুর্বল হয়ে পরলে মহা বিপদ! কারণ সেক্ষেত্রে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত নানা ঝামেলা যেমন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও নানা সমস্যা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে হঠাৎ করে কোনও বিপদের খপ্পরে পরার আশঙ্কাও যায় বেড়ে।

এখন প্রশ্ন হল কীভাবে বোঝা সম্ভব যে কারও বৃহস্পতি বেজায় দুর্বল হয়ে পরেছে। এক্ষেত্রে কতগুলি জিনিসের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলেই বুঝে যাওয়া সম্ভব হবে যে বৃহস্পতি গ্রহ দুর্বল হয়ে পরেছে কিনা। যেমন ধরুন- তর্জনীর নিচে পাহাড়ের মতো যে ফোলা জায়গাটা আছে, সেখানে যদি অনেক রেখা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে বৃহস্পতির অবস্থান বেজায় দুর্বল। আর যদি দেখেন ইনডেক্স ফিঙ্গারের নিচের অংশটা পাহাড়ের মতো উঁচু নয়, বরং একটু ফ্ল্য়াট গোছের অথবা তর্জনীটা একটু মধ্যমার দিকে ঘেঁষে রয়েছে , তাহলেও জানবেন বৃহস্পতির খারাপ প্রভাব পরতে চলেছে আপনার উপর।

প্রসঙ্গত, আরও বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে যা সাধারণত এই বিশেষ গ্রহটি দুর্বল হলেই প্রকাশ পেতে শুরু করে। যেমন ধরুন- হঠাৎ করেই ত্বক আদ্রতা হারাবে, নতুন কিছু জানার আগ্রহ একেবারে কমে যাবে, কাজে মন বসবে না, বস আপনার সঙ্গে একেবারেই ভাল ব্যবহার করবেন না, জীবনে স্থিরতার অভাব দেখা দেবে, রাগের মাত্রা বাড়বে, লিভার এবং পেটের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে, বৈবাহিক জীবনে নানা সমস্যা দেখা দেবে এবং যে কোনও কাজই ঠিক মতো হতে চাইবে না।

এইসব লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করলে সময় নষ্ট না করে একজন জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে এই লেখায় আলোচিত নিয়মগুলি যদি মেনে চলা শুরু করেন, তাহলে যে উপকার পাবেই পাবেন, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই! প্রসঙ্গত, যে যে নিয়মগুলি মেনে চলেল বৃহস্পতি গ্রহের খারাপ প্রভাব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, সেগুলি হল…

১. পোখরাজ বা হলুদ সাফায়ার:

১. পোখরাজ বা হলুদ সাফায়ার:

জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে কারও বৃহস্পতি দুর্বল হয়ে পরলে পোখরাজ স্টোনটা ধারণ করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ এমনটা করলে যে শুধু গ্রহ দোষ কেটে যায়, এমন নয়। সেই সঙ্গে বৃহস্পতির অবস্থান এতটাই জোরালো হয়ে ওঠে যে নানাবিধ উপকার মিলতে সময় লাগে না। তবে স্টোনটি পরার সময় কতগুলি নিয়ম মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন। যেমন ধরুন-স্টোনটি পরতে হবে বৃহস্পতিবার এবং জেম স্টোনটি ধরণা করার আগে দুধ, ঘি, মধু, দই এবং গঙ্গা জল দিয়ে পাথরটাকে শোধন করে নিতে হবে। এরপর বৃহস্পতি মন্ত্র জপ করতে করতে পরতে হবে আংটি। এমনটা করলে দেখবেন দ্রুত উপকার মিলবে। প্রসঙ্গত, পাথরটা সোনার আংটিতে লাগিয়ে ধারণ করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

২. বৃহস্পতি ব্রত:

২. বৃহস্পতি ব্রত:

শাস্ত্র মতে বৃহস্পতি গ্রহের কুপ্রভাব কাটাতে প্রতি বৃহস্পতিবার উপোস করে বৃহস্পতি দেবের অরাধনা করা একান্ত প্রয়োজন। সেই সঙ্গে দেবকে নিবেদন করতে হবে কলা এবং অন্যান্য হলুদ খোসার ফল, আর মনে করে কলা গাছের গোড়ায় জল ঢালতে হবে। এই নিয়মগুলি মেনে বৃহস্পতি ব্রত পালন করলে দেখবেন গ্রহ দোষ কেটে যেতে সময় লাগবে না।

৩. শক্তিশালী বৃহস্পতি মন্ত্র:

৩. শক্তিশালী বৃহস্পতি মন্ত্র:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে হলুদ জামা-কাপড় পরে এক মনে ১০৮ বার বৃহস্পতি মন্ত্র জপ করলে দারুন উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বৃহস্পতি গ্রহের খারাপ প্রভাব যেমন কেটে যায়, তেমনি এই বিশেষ গ্রহের প্রভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতেও সময় লাগে না। সেই সঙ্গে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধির ছোঁয়াও লাগে। প্রসঙ্গত, মন্ত্রটি হল-“ওম ঝ্রাম ঝ্রিম ঝ্রম শাহ গুরুভে নমহ”।

৪. মন খুলে দান করতে হবে:

৪. মন খুলে দান করতে হবে:

দ্রুত বৃহস্পতি গ্রহের খারাপ প্রভাব কেটে যাক, এমনটা চান নাকি? তাহলে প্রতি বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণদের গুড়, হলুদ, ডাল, ব্রাউন সুগার, মিষ্টি এবং হলুদ কাপড় দান করতে ভুলবেন না যেন! এমনটা কয়েক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

৫. শিব ঠাকুর এবং ভগবান বিষ্ণুর পুজো করা মাস্ট:

৫. শিব ঠাকুর এবং ভগবান বিষ্ণুর পুজো করা মাস্ট:

শাস্ত্র মতে প্রতিদিন ভগবান শিব, বিষ্ণ দেব, কলা গাছ এবং অশ্বত্থ গাছের পুজো করলে বৃহস্পতি গ্রহের প্রভাব কেটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে গুড লাক রোজের সঙ্গী হয়ে তো ওঠেই, তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে চোখে পরার মতো।

৬. গরুকে খাওয়াতে ভুলবেন না:

৬. গরুকে খাওয়াতে ভুলবেন না:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতি বৃহস্পতিবার গরুকে খাবার খাওয়ালে গ্রহ দোষ কেটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আটকে থাকা কোনও কাজ হতে শুরু করে দেয়। শুধু তাই নয়, মনের মতো চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতেও সময় লাগে না।

৭. হলুদ জামা-কাপড়:

৭. হলুদ জামা-কাপড়:

বৃহস্পতিবার করে সম্ভব হলে হলুদ কাপড় জামা-কাপড় পরা শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবেই মিলবে। আসলে যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে হলুদ রং, বৃহস্পতি দেবের বেজায় পছন্দের। তাই তো সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে হলুদ জামা-কাপড় পরলে বৃহস্পতি গ্রহের খারাপ প্রভাব কমে যেতে সময় লাগে না।

বৃহস্পতি দুর্বল হয়ে পরলে কিন্তু মারাত্মক বিপদ! তাই সবারই এই নিয়মগুলি মেনে চলা জরুরি!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here