মূল Spirituality (আধ্যাত্মিকতা টিপস) ধ্যান করার অভ্যাস শুরু করবেন কীভাবে?

ধ্যান করার অভ্যাস শুরু করবেন কীভাবে?

ধ্যান করার অভ্যাস শুরু করবেন কীভাবে?

প্রাত্যহিক জীবনে ধ্যান বা মেডিটেশনের কার্যকারিতা এবং উপকারিতার কথা অনেকেরই জানা। অনেকেই ভাবেন, তাঁদের নানাবিধ সমস্যার হাত থেকে মুক্তির রাস্তা এই মেডিটেশন-ই।

কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই এটা জানেন না, মেডিটেশন কীভাবে শুরু করবেন। সেই কারণেই তাঁরা মেডিটেশন থেকে দূরে থেকে যান। কিন্তু কোনও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়েও আপনি মেডিটেশনের পদ্ধতি জেনে ফেলতে পারেন, শুরু করে দিতে পারেন মেডিটেশন। ধাপে ধাপে রইল নির্দেশ।

১। কতক্ষণ মেডিটেশন করবেন

১। কতক্ষণ মেডিটেশন করবেন

প্রথম প্রথম যখন মেডিটেশন বা ধ্যান শুরু করবেন, সময় বরাদ্দ রাখুন, পাঁচ মিনিট। মনে রাখবেন প্রথম কয়েক সপ্তাহ এই পাঁচ মিনিটও মনে হবে বিরাট সময়। তারপর ক্রমশ সময়টা টের পাবেন না। তখন অল্প অল্প করে সময়সীমাটা বাড়াতে থাকুন। মাসখানেক বাদে আধ ঘণ্টা পর্যন্ত মেডিটেশনের জন্য রাখতে পারেন।

২। বসবেন কোথায়

২। বসবেন কোথায়

যেখানে আপনি আরাম করে বসতে পারবেন, কিন্তু ঘুমিয়ে পড়বেন না, সেখানে বসেই মেডিটেশন করতে পারেন। সেটা হতে পারে কোনও টুল, কোনও চেয়ার বা মেডিটেশন করার বিশেষ গদি। এই গদি সবেচেয়ে প্রচলিত বসার স্থান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোথায় বসছেন, সেটা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। মেডিটেশনের জন্য যে আপনাকে পদ্মাসন বা কোনও বিশেষ আসনে বসতে হবে- এমনটাও নয়। বরং যেখানে বসে শারীরিক ভাবে কোনও কষ্ট হবে না, এবং মনোসংযোগে ব্যাঘাত হবে না, সেখানে বসেই আপনি মেডিটেশন করতে পারবেন। এমনকী মেঝেতে বসেও যদি আপনার অসুবিধা না হয়, তাতেও হবে।

৩। কীভাবে ধ্যান করবেন

৩। কীভাবে ধ্যান করবেন

প্রথামিক ভাবে ধ্যান শুরু করার সহজতম পদ্ধতি নিজের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস গোনা। বিষয়টা খুব সহজ। নিজের পুরো মনসংযোগটাই নিয়ে গিয়ে ফেলুন শ্বাসের ওপর। প্রতিবাদ নিঃশ্বাস গ্রহণের সময় এবং প্রশ্বাস ত্যাগ করার সময় গুনতে থাকুন। প্রথমবার যখন নিঃশ্বাস নিলেন, গুনবেন ‘এক’। প্রথমবার যখন প্রশ্বাস ত্যাগ করবেন, তখনও গুনবেন এক। দ্বিতীয় বার নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় গুনবেন ‘দুই’। পরের প্রশ্বাসটা ত্যাগ করার সময় আবার গুনবেন ‘দুই’। অর্থাৎ গোনার পদ্ধতিটা হবে এক-এক, দুই-দুই, তিন-তিন, চার-চার… এই ভাবে। এক্ষেত্রে আপনার পুরো মনসংযোগটাই রাখবেন নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর। প্রথম প্রথম মনসংযোগ করতে সাহায্য করবে এই গনণার তাগিদ। তারপর দেখবেন, এমনিই মনসংযোগ করতে পারেবন।

৪। শেষ করবেন কীভাবে

৪। শেষ করবেন কীভাবে

মেডিটেশনের নিয়ম হল, আপনি যখন এই মনসংযোগের স্তরে পৌঁছবেন, তখন চারপাশের কোনও খেয়াল আফনার থাকবে না। তাই সময় কতটা কাটছে, সেটা বোঝাও আপনার জন্য কঠিন। সেক্ষেত্রে টাইমার সমতে ঘড়ি বা মোবাইল ফোনের সাধারণ টাইমার ব্যবহার করাটা ভালো। প্রথম দিকে পাঁচ মিনিটকেও অনন্ত সময় বলে মনে হলেও, পরে মেডিটেশনের ক্ষমতা বাড়তে থাকলে দেখবেন, সময়কজ্ঞান আর থাকছে না। তাই টাইমারটা তখন কাজে আসবে। প্রথম দিকে পাঁচ মিনিট বরাদ্দ রাখলে, পরে সময়টা বাড়াতে থাকুন। মাস খানেকের মধ্যে আধঘণ্টায় নিয়ে যান।

৫। কখন মেডিটেশন

৫। কখন মেডিটেশন

মেডিটেশন করার কোনও বাধাধরা সময় নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মেডিটেশন করতে পারেন, বা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও পারেন। অনেকে অফিসে কাজের ফাঁকে লাঞ্চের সময়ও মেডিটেশন করেন। শিধু মাথায় রাখবেন, প্রতিদিন কখন মেডিটেশন করছেন, সেটা যেন নির্দিষ্ট থাকে। আপনার ঘুমোতে যাওয়া বা দাঁতমাজার মতোই মেডিটেশনও যেন আপনার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়।

৬। ফল পাচ্ছেন না

৬। ফল পাচ্ছেন না

অনেকেই অভিযোগ করেন, অনেক দিন মেডিটেশন করেও কোনও ফল পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে, তাঁদের কাছে প্রশ্ন, ঠিক কী ফল পেতে চেয়েছিলেন তাঁরা? মনে রাখবেন, মেডিটেশন আপনাকে এমন কোনও ক্ষমতা দেবে না, যা প্রয়োগ করে আপনি চারপাশের অনেক কিছু বদলাতে পারেন। বরং মেডিটেশন আপনাকে শক্তি দেবে নিজেকে বদলানোর। আপনাকে শান্তি দেবে, মনে ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে। এতে আপনার মানসিক ক্লান্তি, অবসাদ অনেকটাই দূর হবে। তবে তার জন্য সময় দিতে হবে আপনাকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here