মূল Health (বাংলা স্বাস্থ্য টিপস) পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত বাচ্চা? আসক্তি কাটাবেন কীভাবে?

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত বাচ্চা? আসক্তি কাটাবেন কীভাবে?

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত বাচ্চা? আসক্তি কাটাবেন কীভাবে?

এখন সকলের জন্যই ইন্টারনেটের খোলা দুনিয়া। কারও কাছে একটা স্মার্ট ফোন থাকলেই খুব সহজেই খুঁজে নেওয়া যায় বিনোদন সামগ্রী। আর সেই কারণেই বাবা-মায়েদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে সন্তানদের নিয়ে। কারণ বয়ঃসন্ধি বা প্রাক-বয়ঃসন্ধির বাচ্চাদের মধ্যে যে হরমোন-গত পরিবর্তন হয়, বা যে মানসিক পরিবর্তন আসে, তার কারণে বাচ্চাদের মধ্যে আকর্ষণ জন্মায় পর্নোগ্রাফির প্রতি। এবং ইন্টারনেটে তারা সহজেই খুঁজে নিতে পারে সেই ধরনের প্রাপ্তবয়স্কদের ছবি। এই ধরনের ভিডিও বা ফিল্মের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ তাদের মানসিক সমস্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে। যেহেতু বাচ্চাকে সব সময় চোখে-চোখে রাখা সম্ভব নয়, তাই কায়দা করে এই সমস্যা থেকে তাদের বের করতে হবে।

প্রথমে বুঝতে হবে কেন তার মধ্যে পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের ছবির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে। প্রাক-বয়ঃসন্ধির বাচ্চাদের মধ্যে অল্প অল্প করে যৌন চেতনার জন্ম হয়। এই ধরনের ফিল্ম বা ভিডিও ক্লিপ তাদের সেই যৌনতার প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়। মনোবিদদের মতে, এই ধরনের ভিডিও বা ক্লিপের কারণে বাচ্চাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের মতো নিউরো-কেমিক্যালের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়। যা তাদের সহজেই যৌনউত্তেজনার মধ্যে ঠেলে দেয়। এর কারণেই তাদের মধ্যে মাস্টারবেশন বা স্বমেহনের প্রবণতা বাড়ে। যেটি তাদের সাধারণ দুঃখ, বা দৈনন্দিন চাপের থেকে মুক্তি দেয়। এটাই নয়, একঘেয়েমি কাটাতেও তারা স্বমেহনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। আর তাতে পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাচ্চাদের এই অভ্যাস থেকে বের করে আনার জন্য দরকার:

child from pornography addiction

১। যৌনতার বিষয়ে জানান:

বাচ্চাদের থেকে যৌনতার বিষয়টা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন না। তাতে অযাচিত আকর্ষণ বাড়বে। বরং তাদেরকে তাদের মতো করে যৌনশিক্ষা দিন। এ বিষয়ে মনোবিদ আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবেন।

২। স্মার্টফোনে নিষেধ:

বাচ্চার বয়স ১১ বছর হওয়ার আগে তার হাতে কোনওভাবেই ইন্টারনেট তুলে দেবেন না। তা সে ফোন হোক বা কমপিউটার। দিলেও তার ওপর সেই সময় নজর রাখুন।

child from pornography addiction

৩। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখান:

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বাচ্চারা বেশি আবেগতাড়িত হয়। সেই কারণে তারা সহজেই আঘাত পেতে পারে। আর এই সময় তারা নিজেদের ভুলিয়ে রাখার জন্য পর্নোগ্রাফির দ্বারস্থ হয়। যদি নিজেদের আবেগ কীভাবে সামলাতে হবে, আঘাত পেলেও কীভাবে মন ভালো করতে হবে, তা তাদের শেখানো যায়- তাহলে তাদের মধ্যে পর্নোগ্রাফির আকর্ষণ কমবে।

৪। ছুটির সময় নজরদারি:

বাচ্চারা মূলত সেই সময় পর্নোগ্রাফির প্রতি আকৃষ্ট হয়, যখন তারা একা থাকে, তাদের খেলাধুলোর সুযোগ থাকে না। সাধারণত রাতে বা লম্বা সময়ের জন্য যখন স্কুল ছুটি থাকে, তখনই এই ধরনের অভ্যাস বাড়তে থাকে। তাই এই সময়গুলো খুব সযাগ দৃষ্টি রাখুন ওর দিকে।

child from pornography addiction

৫। বন্ধুদের দিকেও নজর:

অনেক সময় আপনি আপনার বাড়ির বাচ্চাটিকে পর্নোগ্রাফির থেকে দূরে রাখলেন। কিন্তু বন্ধুরাও অনেক সময় তাদের হাতে এই ধরনের ভিডিও তুলে দেয়। তাই বাড়িতে বাচ্চাদের বন্ধুরা এলে, তারা সঙ্গে করে পেনড্রাইভ বা অন্য কোনও ডিভাইস নিয়ে আসছে কি না দেখুন। তাতে কী আছে, সেটাও জানার চেষ্টা করুন।আপনার বাচ্চা বন্ধুর বাড়ি গেলে, সেখান থেকে ফোন বা পেনড্রাইভে এণন কিছু নিয়ে আসছে কি না জানুন। আর দেখুন, তার কোনও বন্ধু যেন ইচ্ছে করে বাড়িতে এই জাতীয় কোনও ডিভাইস রেখে না যায়।

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত বাচ্চা? আসক্তি কাটাবেন কীভাবে?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here