মূল Health (বাংলা স্বাস্থ্য টিপস) গর্ভাবস্থায় দূরে রাখুন এই খাবারগুলি

গর্ভাবস্থায় দূরে রাখুন এই খাবারগুলি

গর্ভাবস্থায় দূরে রাখুন এই খাবারগুলি

আমাদের মানবজীবনে চার অধ্যায়। শৈশব, কৈশোর, যৌবন আর বার্ধক্য। চার অধ্যায়ে নানা উত্থান পতন, টানাপোড়েনে জীবন নিজের মত করে চলতে থাকে। আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করি নানা বিষয়ে। ছেলেদের ক্ষেত্রে এটা চার অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ হলেও মেয়েরা কিন্তু আরো একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। এক বিশেষ সময়। প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থা। চিকিৎসাশাস্ত্রে এর মেয়াদ ১০ মাস ১০ দিন হলেও এই সময় একটা মেয়ে অনেক কিছু দেখে এবং শেখে। নতুন করে এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। এক নতুন জীবন জন্ম দেওয়ার জন্যে নানান দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। যে আসছে তার ভালো থাকার জন্যে নিজের ভালো থাকাটাও যে অনেক জরুরী, এই বোধ একটা মেয়েকে এই সময় সচেতন করে তোলে। দায়িত্ববোধ আর কর্তব্যের মেলবন্ধন তাকে বারবার নতুন নতুন ভালো কিছু শিখতে সাহায্য করে।

এই সময়টা একটা মেয়ের কাছে খুব গুরত্বপূর্ণ। ভালো থাকার জন্যে নানা বিধি নিষেধ মেনে চলতে হয়। পরিবারের বড়রা তাকে গাইড করার জন্যে থাকলেও নিজের ব্যাপারে নিজের কিছু কিছু জিনিস জেনে রাখা জরুরি। হাঁটাচলা, ঘুম সমস্ত কিছুর পাশাপাশি খাওয়া দাওয়ার উপরেও সমান ভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অনেক কিছু পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত, আবার অনেক কিছু খাওয়া উচিত নয়। আজকের বিষয়ে আলোচনা করবো কী কী গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়।

১. চিজ থেকে দূরে থাকুন:

১. চিজ থেকে দূরে থাকুন:

চীজ অনেকেই খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু আনপ্রসেসড চীজ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। কারণ এতে লিস্টেরিয়া নামক ব্যাক্টেরিয়া থাকে। একই ভাবে নরম চীজ এ জল বেশি থাকে যাতে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ বেশি হয়।

২. কাঁচা ডিম ভুলেও না:

২. কাঁচা ডিম ভুলেও না:

কাঁচা ডিম বা হাফ সিদ্ধ ডিম খেতে যারা ভালোবাসেন, এবার সময় এসেছে এগুলোকে না বলার। একই ভাবে প্রসেসড মিট বা রোস্ট খাওয়াকেও না বলুন। এক্ষেত্রে টকসোপ্লাজমা ব্যাক্টেরিয়া শরীরের মধ্যে গেলে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। সি ফিশ বা সমুদ্রের মাছ খাওয়া ভালো, এতে ওমেগা -৩ থাকে। তবে সেই মাছও খান পরিমিত পরিমাণে।

৩. মাল্টিভিটামিনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ:

৩. মাল্টিভিটামিনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ:

অনেক খাবার আমরা এই সময় খেয়ে থাকি যাতে ভিটামিনের অভাব শরীরে না হয়। এমন কোনো খাবার খাবেন না যাতে বেশি পরিমাণে ভিটামিন-A আছে। এমনকি মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়ার আগেও ডক্টরের পরামর্শ নিয়ে খান।

৪. বাসি স্যালাড বা কাটা ফল খাবেন না:

৪. বাসি স্যালাড বা কাটা ফল খাবেন না:

সবুজ স্যালাড স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। অবশ্যই স্যালাড খান কিন্তু কখনোই অনেকক্ষন আগের কেটে রাখা স্যালাড খাবেন না। বাইরের কাটা স্যালাডকেও এখন না বলুন। অনেক আগের কাটা স্যালাডে লিষ্টেরিয়া প্যারাসাইট থাকে।

৫. ধুমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন:

৫. ধুমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন:

কোনো রকম নেশাকে না বলুন। ধূমপান বা অ্যালকোহল কোনোটাই এই সময় নেওয়া উচিত না। অতিরিক্ত ডোপামিন হরমোন ক্ষরণ এই সময় বাচ্চার ক্ষতি করে।

৬. বেশি চা, কফি খাবেন না:

৬. বেশি চা, কফি খাবেন না:

অনেকের মধ্যেই চা বা কফি খাওয়ার প্রবণতা আছে। স্ট্রেস কমাতে অনেকে এক কাপ চা বা কফি বেছে নেন। চেষ্টা করুন এই প্রবণতা কমানোর। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে গেলে মিসক্যারেজের সম্ভাবনা বা কম ওজনের শিশু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।

৭. পেঁপে ও কলা থেকে দূরে:

৭. পেঁপে ও কলা থেকে দূরে:

ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো। এই সময় ফল বা ফলের রস শরীরের পক্ষে উপকারী। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রেও একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কলা বা পেঁপে এমনি সময় স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী হলেও গর্ভাবস্থায় না খাওয়া উচিত। কলা বা পেঁপে তে যে ফাইবার থেকে তা দেহের তাপ বাড়িয়ে তোলে। তেঁতুলে ভিটামিন – সি থাকলেও এই ভিটামিন এই সময় শরীরে অতিরিক্ত যাওয়া উচিত নয়।

৮. ঠান্ডা পানীয়কে না বলুন:

৮. ঠান্ডা পানীয়কে না বলুন:

অনেকেই আছেন যারা বাজার চলতি ঠান্ডা পানীয় খেতে ভালোবাসেন। খাওয়ার পর বা যে কোনো সময় একটু গলা ভিজিয়ে আরাম পান। অনেকে কাজের চাপে খেতে চান এনার্জি ড্রিংক। চেষ্টা করুন এগুলো এই সময়ে এড়িয়ে চলার। কারণ এতে থাকে সংরক্ষক বা preservatives, যা শরীরের জন্যে ক্ষতিকারক।

৯. অ্যালার্জি হয় এমন খাবার খাবেন না:

৯. অ্যালার্জি হয় এমন খাবার খাবেন না:

বাইরে বা অন্য কোথাও গেলে খাবার খাওয়ার আগে জেনে নিন খাবারে এমন কিছু দেওয়া আছে কিনা যা থেকে আপনার অ্যালার্জি হয়।

১০. ডাক্তারের পরামর্শ জুরুরি:

১০. ডাক্তারের পরামর্শ জুরুরি:

ভালো ডক্টরের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের ডায়েট বেছে নিন।

গর্ভাবস্থায় দূরে রাখুন এই খাবারগুলি

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here