মূল Beauty (বাংলা বিউটি টিপস) গরম পড়ছে, কোন সানস্ক্রিন বাছবেন নিজের জন্য?

গরম পড়ছে, কোন সানস্ক্রিন বাছবেন নিজের জন্য?

গরম পড়ছে, কোন সানস্ক্রিন বাছবেন নিজের জন্য?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যেমন বেড়ে চলেছে পৃথিবীর বিপদ, আরেকদিকে বেড়ে চলেছে আপনার শরীরের ক্ষতিও। বছর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে গরমকালের তাপমাত্রাও। এই অবস্থায় আপনার ত্বক নিয়ে চিন্তা করাই স্বাভাবিক। প্রতিদিন যাদের অফিসে যেতে হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরোও প্রকট। সানবার্ন, ত্বকের ক্যান্সার এসবের সম্ভাবনা বাড়ছে ভয়ানকভাবে, সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে।

কিন্তু এতরকম ক্রিমের মধ্যে থেকে কোন ক্রিমটা কিনবেন বাজার থেকে? কোনটাই বা আপনার ত্বকের প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খায়? প্রশ্ন অনেক, উত্তরও আছে, ধাপে ধাপে আসা যাক। সূর্যের যে রশ্মিগুলো আপনার ত্বকের ক্ষতি করে তা হল ইউভিএ ও ইউভিবি। ইউভিএ আপনার বয়স বাড়ার আগেই বাড়িয়ে দিতে পারে ত্বকের বয়স যাকে বলে স্কিন এজিং। আর ইউভিবি ঘটায় সানবার্ন। এই দুইই আবার পারদর্শী ত্বকের ক্যান্সারে। তাই ত্বককে বাঁচাতে হবে এই দুইধরনের রশ্মির থেকেই।

ব্রড স্পেকট্রাম

ব্রড স্পেকট্রাম

প্রথমেই দেখে নিন যে সানস্ক্রিন আপনি বাজার থেকে কিনবেন বলে ঠিক করেছেন তার গায়ে ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ কথাটা লেখা কিনা। লেখা থাকলে বুঝবেন সানস্ক্রিনটি আপনার ত্বককে দুইরকম রশ্মি থেকে রক্ষা করতে পারবে।

এসপিএফ

এসপিএফ

যে কোনও সানস্ক্রিনের এসপিএফ এর পরিমাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসপিএফ হল ইউভিবি রশ্মি প্রতিরোধের মাপ। ভারতীয় আবহাওয়ায় রোদের প্রভাব বেশি । তাই সানস্ক্রিন বাছার সময় দেখা নিতে হবে এসপিএফ এর মান ৩০ এর বেশি কি না। ৩০ এর কমে তো কোনও মতেই কিনবেন না, বরং যারা নিত্যদিনের অফিসকর্মী তাদের অনেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ তাদের পরামর্শ দেন ৫০-এর বেশি মানের এসপিএফ যুক্ত ক্রিম ব্যবহারে। তবে বলে রাখা ভালো কোনও ক্রিমই সম্পূর্ণরূপে রশ্মির প্রভাব থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করতে পারবে না, এমনকী এসপিএফ ১০০ ও ৯৯% রশ্মির প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

দু'ঘণ্টা অন্তর ক্রিম

দু’ঘণ্টা অন্তর ক্রিম

ওয়াটার রেসিস্টান্ট সানস্ক্রিন কিন্তু ওয়াটার প্রুফ হয় না, তাই আপনি যদি ঘামেন বা কোনও কারণে বাইরে বেরিয়ে মুখ ধোন, আপনাকে আবার সানস্ক্রিন মাখতে হবে। তাছাড়া কোনও সানস্ক্রিনই দুঘন্টার বেশি ত্বকের রক্ষা করতে পারে না, ফলে না ঘামলেও বা মুখ না ধুলেও দু ঘন্টা অন্তর লাগিয়ে নিন সানস্ক্রিন।

কতটা ব্যবহার করবেন

কতটা ব্যবহার করবেন

কতটা সানস্ক্রিন লাগানো উচিত তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন। একজন প্রাপ্তবয়স্ককে, তার শরীরের বেরিয়ে থাকা অংশগুলো রোদ থেকে বাঁচাতে হলে ৩০ গ্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেই হয়। পায়ের পাতা থেকে মাথার ত্বক( স্কাল্প) ও যেন বাদ না হয়। যেসব জায়গায় চুল বেশি সেখানে জেল সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন আর মুখের ক্ষেত্রে বাছুন ক্রিম সানস্ক্রিন।

ত্বক বুঝে বাছুন

ত্বক বুঝে বাছুন

শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম জাতীয় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তবে বেছে নিন‌ জেল জাতীয় বা জলীয় সানস্ক্রিন। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত বা শুষ্ক কোনওটাই না হয়ে সাধারণ ত্বক হয় তবে বাছুন লোশন জাতীয় সানস্ক্রিন।

কতক্ষণ আগে ক্রিম ব্যবহার

কতক্ষণ আগে ক্রিম ব্যবহার

মুখের ও শরীরের জন্য আলাদা আলাদা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। যেহেতু আপনার শরীরের ত্বকের থেকে মুখের ত্বক তুলনায় পাতলা, তাই মুখের জন্য চাই বেশি যত্ন। বাজারে এছাড়াও গুঁড়ো অথবা কম অ্যালার্জিক সানস্ক্রিন পাওয়া যায় যা আপনার নিজের পছন্দের সঙ্গে সহজেই মিলবে। তবে মনে রাখা দরকার যে সানস্ক্রিনই ব্যবহার করুন না করুন, রোদে বেরোনোর ১৫-২০ মিনিট আগে তা ব্যবহার করুন।

রোদ থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন মাষ্ট, তবে কিছু উপায়ে কিন্তু রোদ এড়িয়ে চলা যায়। যেমন, ছায়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন, চেষ্টা করুন যা কাজ আছে ছায়াতেই মিটিয়ে ফেলতে। অনেকেই ত্বকের ট্যান করিয়ে থাকেন। এতে আপনি নিজের বিপদ নিজেই ডাকছেন। যত ট্যান করাবেন ততই আপনার ত্বকের বয়স সময়ের আগে বাড়বে, ক্যানসার এর সম্ভাবনাও বাড়বে পাল্লা দিয়ে। ১০ টা থেকে ৪ টের মধ্যে ইউভিএ ও ইউভিবি রশ্মির প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই চেষ্টা করুন এই সময়ের ভিতর রোদে কাজ ছাড়া না বেরোতে।

গরম পড়ছে, কোন সানস্ক্রিন বাছবেন নিজের জন্য?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here