মূল সকল বিষয় আসন্ন শীতের জন্য আগাম স্বাস্থ্যসচেতনতা…

আসন্ন শীতের জন্য আগাম স্বাস্থ্যসচেতনতা…

দেখতে দেখতে শীতের কড়া নাড়ার সময় চলে এসেছে। গুণে গুণে আর একটা মাস পরেই শীতকাল অনুভব করতে পারবো আমরা। খেজুর রস, পিঠা-পুলি, ছুটি, ভ্রমন ইত্যাদির সঙ্গে শীত আরেকটা জিনিস নিয়ে আসে। আর সেটি হলো ‘রোগবালাই’। জমিয়ে শীত পড়েছে কিন্তু কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার! কিন্তু কে-ই বা চায় ছুটির সময়টা উপভোগ না করে রোগে কাতর হয়ে বিছানায় পড়ে থাকতে? সেজন্যেই চিকিৎসকের কাছে দৌড়নোর আগেই কিছু ছোটখাটো উপায় জেনে রাখা ভালো নয়?

আজকের আয়োজনে রয়েছে শীতে কাবু হওয়া থেকে বাঁচতে কয়েকটি আগাম টিপস।

প্রচুর পানি পান করুন

শীতকাল আসলেই আমাদের একটি বদ অভ্যাস আপনাআপনি চলে আসে, সেটি হলো যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান না করা। অথচ শীতের সময়েই অধিক পানি পান করতে হয় কারণ সে সময়টাতে আমাদের শরীরে ভীষণ পানিশূণ্যতা দেখা দেয়। প্রতিদিন অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস রপ্ত করুন এখন থেকেই।

স্ট্রেস কম নিন

আমাদের সবার জীবনই নানা রকম স্ট্রেস কিংবা ধকলে পরিপূর্ণ। কিন্তু সেটা চেপে ধরে রাখার তো কোন মানে হয় না, তাই না? অভিনব উপায়ে সবকিছু ঠিক রেখে চলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। অতিরিক্ত কাজের চাপ নিলে কোল্ড অ্যালার্জি কিংবা ফ্লু হবার সম্ভাবনা থাকে। সপ্তাহে অন্তত একদিন ছুটি কাটান। দিন শেষে কিছু মুহূর্ত বেঁধে নিন পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে উপভোগ করার জন্যে। সে সময়টাতে সামাজিক যোগাযোগের সকল মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন

সুষম খাবার খান

এখানে সুষম খাবার বলতে বোঝানো হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলমূল এবং সবজি খেতে হবে। আঁশজাতীয় খাবার তো রাখতেই হবে নিত্যদিনের মেনুতে। ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার ত্যাগ করাই উত্তম।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

শীতকাল আসলে কোনভাবেই ব্যায়াম বাদ দেওয়া যাবেনা। দিনে নূন্যতম পনেরো মিনিটের জন্য হলেও ব্যায়াম করুন। এতে শরীর যেমন সতেজ থাকবে তেমনি মনও ফুরফুরে থাকবে।

ঘুমের পরিমাণ ঠিক করুন

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ছয়-আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। আপনি পরিমিত পরিমাণে না ঘুমোলে খুব সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। ঘুম আমাদের শরীরের জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে, এটি মনে রাখবেন। প্রত্যহ একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান এবং নির্দিষ্ট সময়ে জেগে উঠুন।

নিয়মিত হাত পরিষ্কার করুন

মুখ এবং হাত থেকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিরা যেন না ছড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। আপনার যদি অতিরিক্ত বাইরে থাকা পড়ে তাহলে ব্যাগে অবশ্যই একটি হ্যান্ড স্যনিটাইজার রাখুন। কিছু খাওয়ার আগে কিংবা করমর্দনের পর অবশ্যই হাত পরিষ্কার করে ফেলুন।

ধুমপান করবেন না

বার বার হয়তো আপনি এ কথা শুনেছেন কিন্তু আবারো বলতে হচ্ছে, ধুমপান খুব মারাত্মকভাবে আমাদের পরিপাকযন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়। চেষ্টা করুন পারতপক্ষে সিগারেটের সংস্পর্শে না যাওয়ার।

যে কোন ধরণের মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন

শুধুমাত্র চিনি নয়, চিনির তৈরি যেকোন খাদ্যদ্রব্য থেকে দূরে থাকুন যেমন- কেক, কুকিজ, মিষ্টি ইত্যাদি। এগুলো আপনার পরিপাকযন্ত্র ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়।

ভেষজ চা খান

শীতের সময় বেশি বেশি গরম পানি পান করুন। এছাড়া আপনি বিভিন্ন ধরণের ভেষজ চা পান করতে পারেন যেমন- সবুজ চা, জেসমিন চা, তুলসী চা ইত্যাদি। এগুলো যেকোন সুপার শপ কিংবা মেডিকেল স্টোরে খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।

দুগ্ধজাত খাদ্যসামগ্রী বাদ দিন

মিষ্টিজাতীয় খাবারের পাশাপাশি দুগ্ধজাত খাবার ও বাদ দিয়ে দিন। যেমন- দুধ চা, দই, আইসক্রিম ইত্যাদি।

পরিশেষে বলা যেতে পারে, এ টিপসগুলো অল্প অল্প করে অনুসরণ করা শুরু করে দিন। আশা করা যায়, আপনি সুস্থ থাকবেন। মোদ্দা কথা হলো, বেশি বেশি পান খান, সবজি ও ফল খান এবং সাধারণ সময়ের চাইতে একটু বেশি ঘুমোন। তাহলেই শীতের প্রতিটি দিন ভালোমতন উপভোগ করতে পারবেন আপনি।

সূত্র: Melissa Wood 

আসন্ন শীতের জন্য আগাম স্বাস্থ্যসচেতনতা…

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here