মূল Health (বাংলা স্বাস্থ্য টিপস) সুন্দর হাসির মালিক হতে দাঁত পরিস্কার রাখবেন কীভাবে?

সুন্দর হাসির মালিক হতে দাঁত পরিস্কার রাখবেন কীভাবে?

সুন্দর হাসির মালিক হতে দাঁত পরিস্কার রাখবেন কীভাবে?

দাঁত আমাদের সবার প্রিয়। পরিষ্কার ঝকঝকে দাঁত যে কারুর সুন্দর হাসির গর্ব হতে পারে। আপনার দাঁত যদি দাগ ছোপ ভরা থাকে তাহলে সেই দাঁত লোকসমাজে বের করতে লজ্জা লাগে। আমরা কেউ চাই না যে আমাদের দাঁত অহেতুক নোংরা হোক বা দাগে ভর্তি থাকুক। কিন্তু বর্তমান জীবনের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য কারণে আমাদের অনেক সময় দাঁত নষ্ট হয় এবং দাগ চলে আসে। সেই দাগ ঠিক করতে আমাদেরকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। কিন্তু যদি একটু যত্ন নেওয়া যায় তাহলে এই সমস্যা আর থাকে না।

আজকের দিনে আমাদের বাজারে নানা রকম পেস্ট বা দাঁত পরিষ্কার করার জিনিস থাকলেও আগে এর উপস্থিতি এত ছিল না। বানিজ্যিক ভাবে দাঁতের জন্যে প্রথম পেস্ট আসে প্রায় ১৮০০ সালে। ১৯৬০ সালের পর প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে পেস্ট আমাদের দাঁতের দাগ পরিষ্কার করার জন্যে বা দাঁত ভালো রাখার জন্যে বিভিন্ন কোম্পানী তাদের পেস্টে অন্যান্য জিনিস দিতে শুরু করে। আজকের দিনে কিভাবে নিজের দাঁতকে পরিষ্কার রাখবেন তার জন্যে কী করতে হবে সেই নিয়ে আজ রইলো কিছু সুলুক সন্ধান।

১. কেন দাঁত নোংরা হয়

১. কেন দাঁত নোংরা হয়

অনেক কারণ আছে আমাদের দাঁত নোংরা হওয়ার পিছনে। রোজকার খাওয়া খাবার এর কারণ হতে পারে। প্রতিবার খাওয়ার পর আমরা অনেক সময় আলসেমি বা কাজের তাড়ায় ভালো ভাবে মুখ ধুই না যার কারণে নোংরা দাঁতে লেগে থাকে।

অনেক সময় আমরা নেশা করি। যার মধ্যে পান, গুটখা, বা ধূমপান অন্যতম। তামাকজাত দ্রব্যে এত নিকোটিন থাকে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে দাঁতে ছোপ ফেলে দেয়। একই ভাবে পানের বা চুন সুপারির রস কাজ করে। আমাদের দাঁতের উপরে এনামেলের আস্তরণ থাকে। যার তলায় থাকে ডেন্টিন। এই এনামেল উঠে ডেন্টিন বেরিয়ে এলে দাঁতের শিরশিরানি বেড়ে যায় এবং হলুদ ছোপ হওয়া আরম্ভ হয়।

দাঁত পরিষ্কার করার কিছু সহজ পদ্ধতি দেওয়া হলো এখানে।

১. টুথপেস্ট

১. টুথপেস্ট

এখন বাজারে অনেক পেস্ট কিনতে পাওয়া যায়। কেনার আগে বেছে নিন কোন টুথপেস্ট ভালো আপনার জন্যে। কিছু কিছু টুথপেস্ট নিমের নির্যাস থাকে যা দাঁতের জন্যে ভালো। দাগ ছোপ তোলার জন্যেও ভালো।

২. বেকিং সোডা

২. বেকিং সোডা

বাড়িতে পেস্ট ব্যবহার করেন দাঁত মাজার জন্যে। নিজের পেস্টের সাথে অল্প পরিমাণে বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। ভালো করে মেশানোর পরে ওই মিশ্রণ দিয়ে ব্রাশ করুন। কখনোই দিনে দুবারের বেশি এই মিশ্রণ ব্যবহার করবেন না।

৩. স্ট্রবেরী:

৩. স্ট্রবেরী:

স্ট্রবেরী তে থাকে ascorbic অ্যাসিড। যা পরিমিত পরিমানে ব্যবহার দাঁতের জন্যে ভালো। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার দাঁতের এনামেল নষ্ট করতে পারে।

৪. লেবু

৪. লেবু

লেবুতে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড। এটাও অতিরিক্ত ব্যবহারে দাঁতের ক্ষতি করে। কিন্তু জলের সাথে অল্প পরিমাণে মিশিয়ে যদি পেস্টের সাথে ব্যবহার করা যায় তাহলে দাঁতের দাগ উঠে দাঁত পরিষ্কার থাকে।

৫. কাঠের ছাই

৫. কাঠের ছাই

অনেকেই পুরনো দিনের লোকেরা দাঁত মাজার জন্যে কাঠের ছাই ব্যবহার করতেন। তার বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। কারণ শক্ত কাঠের ছাই পুড়লে তাতে পটাসিয়াম এবং হাইড্রোজেন পার অক্সাইড পাওয়া যায় যা দাঁত পরিষ্কার করে।

৬. কাঠকয়লা

৬. কাঠকয়লা

কাঠের ছাই এর মতই এর গুণাগুণ। একইরকম ভাবে পরিষ্কার করে। যার দরুন আজকাল বাজারে অনেক কোম্পানী তাদের প্রোডাক্টে চারকোল ব্যবহার করছেন।

৭. তেল

৭. তেল

অনেকে ধারণা করেন যে তেল দিয়ে মুখ কুলকুচি করলে দাঁতের খাঁজে জমে থাকা ময়লা বেরিয়ে আসে। যার ফলে দাঁতের ক্ষতি কম হয় এবং দাঁত সুস্থ ও পরিষ্কার থাকে। এর জন্যে নারকেল তেল বা সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

৮. নেশা

৮. নেশা

পান, সিগারেট খাওয়া বা গুটখা খাওয়া ছাড়তে হবে। নাহলে হাজার একটা পেস্ট বা রেমেডি আপনার দাঁতকে পরিষ্কার রাখতে পারবে না। সাথে একটা নিদ্রিষ্ট সময় অন্তর দাঁতের ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁত স্কেলিং করাতে হবে। নাহলে দাঁতের উপরিভাগ অমসৃণ খুব হলে তাতে জমে থাকা দাগ ওঠানো অসম্ভব।

সুন্দর হাসির মালিক হতে দাঁত পরিস্কার রাখবেন কীভাবে?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here